মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁও নিউজ :
এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা- ৪ আসনে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজারে,সাতকানিয়া,আনোয়ারাসহ সমগ্র অঞ্চলে আমার ভাইয়েরা বন্যার কারণে কষ্ট পাচ্ছে। বন্যার মধ্যে সেখানকার বাসিন্দা মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে দীর্ঘ সাতদিনের বেশি বন্যায় আক্রান্ত হলেও এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে ওইসব এলাকায় পর্যাপ্ত সাহায্য- সহযোগিতা পৌঁছায়নি। আমরা দেখতে পেয়েছি, বন্যা শুরু হবার সাথে সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন প্রতিমন্ত্রী হজ করতে বিদেশে চলে গিয়েছেন। এছাড়াও আমরা লক্ষ্য করেছি বন্যায় কবলিত মানুষেরা কষ্ট পেলেও আমাদের প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সফরে যাচ্ছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে চট্টগ্রামের বিপদগ্রস্ত মানুষকে সরকারের পক্ষ থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা প্রতিজনকে মাত্র ৩০ টাকারও কম করে দেওয়া হয়। অথচ এই এই চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় রাজস্বে হাজারো কোটি টাকা এই বছর দেওয়া কথা।
মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় জুলাই পথযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন,মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে গর্ভের সাথে বলতে শুনেছি সংবিধান সংস্কার কমিটি নাকি কোনো সংবিধান লিখা নেই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাকে বলি, যদি এটি না থেকে থাকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনও কোনো সংবিধানে নেই। সংবিধান অনুযায়ী তো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার থাকার কথা ছিল শ্রীলংয়ে,প্রধানমন্ত্রীর থাকার কথা ছিল লন্ডনে আর আপনার নেতাকর্মীর ধানখেতে। মনে রাখতে হবে এই সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে নতুন বাংলাদেশের অবিমুখ সেট করেছেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আপনারা মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে,বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। এর মূলত কারণ হচ্ছে বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে তাদের পায়ের তলে মাটি নেই।

এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে আমরা দেখেছি প্রতিটা জায়গায় সরকার তার কমিটমেন্ট থেকে পিছু সরে এসেছে। বিএনপি সরকারের কাছে হাসিনা বিচার ব্যবস্থা, হাসিনার সচিবালয়,এক্সিকিউটিভ ও ব্যবসায়ীরাও পছন্দের। তবে কেবলমাত্র হাসিনাই অপছন্দের ছিল। আমরা আমাদের অবস্থান থেকে হাসিনার ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছি কেবলই হাসিনাকে নয়। এই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে জনআকাংক্ষার বিপক্ষে গিয়ে,গণভোটের বিপক্ষে গিয়ে তারা এমন অবস্থান নিয়েছেন সেই অবস্থান সরাসরি আমাদের জনআক্ংাক্ষার বিরোধী।
শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরিক্ষার্থীরা কিছু দাবি নিয়ে দাড় হলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের মাদকআসক্ত বলে আখ্যাদিত করেছেন। আমরা একজন শিক্ষা মন্ত্রী পেয়েছে যিনি স্টেন্ডবাজি এবং টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ। তিনি সব জায়গায় গিয়েই বলে থাকেন নকল আর চলবে না। মন্ত্রী সাহেব আপনি নিশ্চয়ই বুঝেছেন যে এখানকার শিক্ষার্থীরা আপনার এই স্টেন্ডবাজি বুঝে গেছে? ২০২৬ সালের এই সময়ে আপনি শিক্ষার্থীদের হাটু পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে পরিক্ষা দেওয়াচ্ছেন। এছাড়াও একটা পরিক্ষার প্রশ্নে দুটি সৃজনশীল ভুল দিয়ে রেখেছেন। যা শিক্ষার্থীরা পরিক্ষা হল থেকে বের হয়ে বুঝতে পারেন। এমনঅবস্থায় একজন শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কেমম হয় চিন্তা করেন? মন্ত্রী সাহেব যাদেরকে ফার্মের মুরগি বলছেন এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তা নেমেছিল বলেই আপনি আজ মন্ত্রী হয়েছেন,শ্রীলংকা থেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ আসতে পেরেছেন।
পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমীন, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক মো.তারিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক তুহিন মাহমুদ, এনসিপি নেতা শাকিল সাইফুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা সোনারগাঁও মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে জুলাই পথযাত্রা শুরু করে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত পৌছাতে দেখা গেছে।
আপনার মতামত দিন